
নিজস্ব প্রতিবেদক::
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) একদল অছাত্রদের ইন্ধনে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছে কতিপয় শিক্ষার্থী। জানা যায়, উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের সাথে যারা জড়িত তারা সবাই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়া লেজুড়বৃত্তিক ক্যাম্পাস অপরাজনীতির ফলে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি যারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হয়ে এসেছেন কোনো না কোনো ভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই কয়েকজন শিক্ষক ও কিছু অছাত্রের ইন্ধনে তাদের পেছনে লেগে থাকে কিছু কুচক্রী মহল, যেনো তারা সুষ্ঠু ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন। এক্ষেত্রে ভিন্নতা নেই ববির প্রথম মহিলা ভিসি শুচিতা শরমিনের বেলায় ও।
জুলাই এর গন অভুত্থানের পর উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবেই কয়েকজন অছাত্র পেছন থেকেই বারবার বিশ্ববিদ্যালয়কে অকার্যকর করার অপচেষ্টায় ইন্ধন যোগাচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা। তাঁরা হলো- ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ববি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ ও ছাত্রশিবিরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমানের সাময়িক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি অথবা দলীয় স্বার্থে নেতাকর্মীদের দ্বারা উপাচার্য বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং একে একে নানা ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এবিষয়ে ইমু আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসদের হাত থেকে ভার্সিটি কে বাঁচাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে নামা উচিত, ঐক্যবদ্ধ ভাবে। গুটি কয়েক রাজনৈতিক সুবিধা ভোগীদের জন্য ক্যাম্পাস অস্থির হতে দেওয়া যায় না৷।
এ বিষয়ে বর্তমান লেজুড়বৃত্তির বাহিরে আছেন এমন কাউকে নেতৃত্ব দিয়ে এই অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমরা যারা আসলেই সাধারণ আমরা আপনাদের সাথে দাঁড়াবো।
মুসা হুসাইন নামের আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, আহহ এ কি ভিসি ম্যাম তো সত্যি কথাই বলছে। তাহলে এরা সবাই আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি।
জয়নাল আবেদীন নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, মূলত চলে রাজনীতির খেলা বন্ধু, টাকার খেলা চলে। আন্দোলন হয় আবার নিভে যায়। ম্যামকে চাপে রাখে,অন্যরা স্বার্থ হাসিল করে চলে যায়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বরিশাল শহরে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ আজকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এ বিক্ষোভকে ভালোভাবে নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবে।
জাওয়াদ খান নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, কিছু বললেই তো যে কাউকে দালাল বানিয়ে দেওয়া হয়! এই আন্দোলন যে রাজনৈতিক মদদে হচ্ছে এখনও কি বুঝার বাকি আছে?
মাহমুদুল হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ভিসি স্বৈরাচার নাকি ফ্যাসিস্ট—সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। তবে একটি আলোচনা আপাতত জরুরি, সেটি হল—ভিসি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদ। এই পদের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়কে তত্ত্বাবধান করা। একজন ভিসি যদি সে কাজে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কথা বলবে, আওয়াজ তুলবে অথবা আন্দোলন করবে। যা কিছু করুক, সেটি একান্তভাবেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। যদি তা না হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলার আগে নিজের মুখে নিজেই থুতু দিবেন।
মমিনুল ইসলাম রানা নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থাকবে কি থাকবে না এগুলো নির্ধারণ করবে একাডেমিক র সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিন্তু বিএনপি শাশিত বহিরাগতরা এখানে নির্ধারণ করার কে? এটা কি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নাকি নির্দিষ্ট কোন দল কেন্দ্রীক প্রতিষ্ঠান যে সব কিছুতে তাদের ইন্টারফেয়ার করা লাগবে।
অভিযোগ রয়েছে ভিসি বিরোধী এই আন্দোলনে প্রো-ভিসি এবং কতিপয় শিক্ষক টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়েছেন সেইসাথে কতিপয় শিক্ষক এই নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন যাতে করে বিশ্ববিদ্যলয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে একাডেমিক কাজ বাধাগ্রস্ত করা যায় এবং ভিসিকে বিতর্কিত করা যায় ।
পাঠকের মতামত